নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় পাশের বাড়ির মানুষের খবর রাখি না, যা সামাজিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। ইসলামে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে ইমানের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে প্রতিবেশীর অধিকার নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা নিচে আলোচনা করা হলো।
প্রথমত, ইমানের পরিমাপক হিসেবে প্রতিবেশীর গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (সা.)-এর মতে, যার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে প্রকৃত মুমিন হতে পারে না। দ্বিতীয়ত, অভুক্ত প্রতিবেশীর প্রতি দায়বদ্ধতা। নিজের ঘরে খাবার থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকলে তা ইসলামের পরিপন্থী। তৃতীয়ত, পারস্পরিক হৃদ্যতা বাড়াতে খাবার বা উপহার আদান-প্রদান করা। রাসুল (সা.) আবু যর (রা.)-কে রান্নার সময় ঝোল বাড়িয়ে প্রতিবেশীর খবর নিতে বলেছিলেন।
চতুর্থত, প্রতিবেশীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা একটি বড় দায়িত্ব। অন্যের দোষ গোপন রাখলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। পঞ্চমত, মুসলিম বা অমুসলিম নির্বিশেষে সব ধরনের প্রতিবেশীর অধিকার সমান বলে উল্লেখ করেছেন ইমাম কুরতুবি। ষষ্ঠত, ছোটখাটো বিষয়ে সহমর্মিতা দেখানো এবং প্রতিবেশীর প্রয়োজনে বাধা না দেওয়া। সপ্তমত, অসুস্থতা বা বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো। সুরা নিসায় নিকট ও দূর প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অষ্টমত, শব্দদূষণ বা গালিগালাজ করে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নবমত, প্রতিবেশীর মৃত্যুতে জানাজায় অংশ নেওয়া এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা ইসলামের অনন্য শিষ্টাচার। আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জাফর (রা.)-এর শাহাদাতের পর নবীজি (সা.) তাঁর পরিবারের জন্য খাবার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। দশমত, জিবরাইল (আ.) প্রতিবেশীর অধিকার নিয়ে এত বেশি তাকিদ দিতেন যে নবীজি (সা.) মনে করেছিলেন প্রতিবেশীকে হয়তো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করে দেওয়া হবে। এই নীতিমালাগুলো অনুসরণ করলে সমাজ থেকে বিদ্বেষ ও অনিরাপত্তা দূর হবে।
শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সম্পর্কে জানুন।



0 মন্তব্যসমূহ