শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ’ বর্তমানে চরম তারল্য সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতায় গত পাঁচ কার্যদিবসে আমানতকারীরা ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটির পর থেকে গত রবিবার পর্যন্ত গ্রাহকদের মধ্যে আমানত তোলার হিড়িক পড়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় ব্যাংকটি বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ বা সিআরআর বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। মূলত আস্থার সংকটের কারণেই সাধারণ গ্রাহকরা তাদের জমানো টাকা তুলে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই সংকটের মূলে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। এই নিয়োগের প্রতিবাদে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ গত ১ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, খুরশীদ আলম কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নতুন পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করলেও নতুন করে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা গ্রাহকদের মধ্যে পুনরায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় টাকা তোলার জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
চরম তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ৫ কার্যদিবসে ৪৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা চেয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।



0 মন্তব্যসমূহ