ভারতের প্রভাবশালী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নিবন্ধন ও জনসমক্ষে জবাবদিহি নিয়ে কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের সাম্প্রতিক মন্তব্য দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই বিতর্কের রেশ ধরে আরএসএস-এর সাবেক সদস্য ও লেখক পার্থ ব্যানার্জি সংগঠনটির স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন।
পার্থ ব্যানার্জি প্রায় ২০ বছর আরএসএস, এবিভিপি এবং বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর ‘ইন দ্য বেলি অব দ্য বিস্ট’ এবং ‘গান্ধীস কিলার্স ইন্ডিয়াস রুলার্স’ বইয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আরএসএস কেন অন্য সংগঠনের মতো নিবন্ধিত হবে না বা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে না, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
ব্যানার্জি জানান, তাঁর বাবাও আরএসএসের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং অটল বিহারি বাজপেয়ী ও এল কে আদভানির মতো নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। তিনি নিজেও দীর্ঘ সময় এই সংগঠনের ভেতরে থেকে দেখেছেন কীভাবে ‘গুরু দক্ষিণা’র মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে এই অর্থের কোনো প্রকাশ্য হিসাব বা স্বচ্ছতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে ভারতে আরএসএসের প্রায় ৮৩ হাজার শাখা রয়েছে এবং সংগঠনটি ক্ষমতার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। প্রিয়াঙ্ক খাড়গের মন্তব্যকে আরএসএস সমর্থকরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বললেও সমালোচকরা একে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। ব্যানার্জি মনে করেন, প্রভাব ও জবাবদিহি একসঙ্গেই বৃদ্ধি পাওয়া উচিত এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রে সব প্রতিষ্ঠানেরই আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকা প্রয়োজন।
আরএসএসের নিবন্ধন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের মন্তব্যে ভারতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ২০ বছর সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত থাকা পার্থ ব্যানার্জিও তুলেছেন জবাবদিহির প্রশ্ন।



0 মন্তব্যসমূহ