সাধারণভাবে ফুটবলের জন্মভূমি হিসেবে ইংল্যান্ডের নাম পরিচিত থাকলেও ফিফা স্বীকৃতি দিয়েছে যে, এই খেলার সবচেয়ে প্রাচীন রূপটির উৎপত্তি হয়েছিল প্রায় ২৩০০ বছর আগে প্রাচীন চীনে। তৎকালীন সময়ে এই খেলাটি ‘কুজু’ নামে পরিচিত ছিল। সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে রাজকীয় বিনোদনের মাধ্যম হয়ে কীভাবে কুজু আধুনিক ফুটবলে রূপান্তরিত হলো, সেই ইতিহাস অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। ‘কুজু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো পায়ে চামড়ার তৈরি বলে লাথি মারা। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় ও দ্বিতীয় শতকে হান রাজবংশের আমলে এই খেলার ব্যাপক প্রচলন লক্ষ্য করা যায়।
কুজুর উৎপত্তি হয়েছিল মূলত যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। হান রাজবংশের সামরিক জেনারেলরা সৈন্যদের শারীরিক ফিটনেস, ক্ষিপ্রতা ও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কুজু খেলা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। শুরুতে বলটি পশুর চামড়ার ভেতরে চুল বা পালক দিয়ে তৈরি করা হতো, যা বেশ ভারী ছিল। পরবর্তীতে হান সম্রাট লিউ বাং নিজে এই খেলার ভক্ত হয়ে ওঠেন এবং রাজপ্রাসাদের ভেতরে পেশাদার দলগুলোর জন্য কুজু মাঠ তৈরি করেন। ট্যাং রাজবংশের শাসনামলে চীনারা পশুর মূত্রথলি ব্যবহার করে বাতাসভর্তি হালকা বল তৈরি করতে শেখে।
প্রাচীন এই খেলায় ‘ঝু কিউ’ পদ্ধতিতে মাঠের মাঝখানে থাকা প্রায় ৩০ ফুট উঁচু বাঁশের জালের ভেতর বল ঢোকানোর প্রতিযোগিতা হতো। সং রাজবংশের আমলে ‘কিশি শে’ নামে বিশ্বের প্রথম পেশাদার ফুটবল ক্লাবের জন্ম হয়, যেখানে খেলোয়াড়রা পারিশ্রমিক বা রাজকীয় উপাধির বিনিময়ে খেলতেন। প্রাচীন চীনা দর্শনে কুজুকে একটি অহিংস যুদ্ধ হিসেবে দেখা হতো, যা ব্যক্তিগত অহংকার ভুলে দলীয় সংহতি শেখাত। চতুর্দশ শতকে মিং রাজবংশের আমলে নানা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এই খেলাটি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সিল্ক রোড ও সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে এই ধারণা এশিয়া থেকে ইউরোপে পৌঁছায়। অবশেষে ১৮৬৩ সালে ইংল্যান্ড এই আদি ধারণাকে ভিত্তি করে আধুনিক ফুটবলের নিয়মকানুন চূড়ান্ত করে।
ফুটবলের আদি ইতিহাস কি কেবল ইংল্যান্ডের? ফিফার স্বীকৃতি অনুযায়ী ২৩০০ বছর আগে প্রাচীন চীনের কুজু খেলাই আজকের আধুনিক ফুটবলের ভিত্তি। জানুন কীভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে এটি বিশ্বসেরা খেলায় পরিণত হলো।



0 মন্তব্যসমূহ