দেশের প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক রবিউল হোসেন পরলোকগমন করেছেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
প্রয়াত এই চিকিৎসক চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপদেষ্টা এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর জানাজার সময়সূচী অনুযায়ী, শনিবার এশার নামাজের পর চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রবিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা এবং জোহরের নামাজের পর মিরসরাই উপজেলার কাঠাছড়ায় তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
অধ্যাপক রবিউল হোসেন দেশের চক্ষু চিকিৎসা ও অন্ধত্ব নিবারণে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ চক্ষুশিবিরে প্রায় ১০ লাখ রোগীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৮৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অপথালমোলজি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। তিনি এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অপথালমোলজিতে দীর্ঘ দুই দশক জাতীয় কাউন্সিলর ও আঞ্চলিক সচিব এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের চেয়ারম্যান হিসেবে আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসা ও জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
দেশের প্রখ্যাত চক্ষুচিকিৎসক ও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক রবিউল হোসেন পরলোকগমন করেছেন। শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



0 মন্তব্যসমূহ