বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই সম্ভাব্য চুক্তিটি দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ও কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনা গতি পায় এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারও এই আধুনিকায়ন পরিকল্পনা অব্যাহত রাখে।
বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে এই অত্যাধুনিক জে-১০সিই সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা অর্জনই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান ছাড়াও পাইলট ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকায় এটি জাতীয় অর্থনীতির ওপর তাৎক্ষণিক বড় কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না বলে জানা গেছে।
জে-১০সিই একটি ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান, যাতে উন্নত এসা (AESA) রাডার এবং দূরপাল্লার পিএল-১৫ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সাবমেরিন, ট্যাংক ও যুদ্ধজাহাজের পর এই আধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে ঢাকা ও বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে চীন থেকে ২০টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২.২ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।



0 মন্তব্যসমূহ