ভ্লাদিমির পুতিনের দীর্ঘমেয়াদী শাসন এবং ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান রাশিয়াকে এক জটিল ও অন্তহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন রাষ্ট্র ও সমাজকে এমন এক যুদ্ধের ময়দানে নিয়ে গেছেন, যা দেশটির শক্তি, সম্পদ ও তরুণ প্রজন্মের জীবনকে ক্রমশ নিঃশেষ করছে। জঁ–পল সার্ত্রের বিখ্যাত নাটক ‘নো এক্সিট’-এর রূপকের মতো রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিও যেন এক নিচ্ছিদ্র ফাঁদ, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর পুতিনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা এক অদ্ভুত স্থিতিশীলতায় পৌঁছালেও এর গভীরে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। যদিও পুতিন যুদ্ধের ব্যয় মেটানোর পথ খুঁজে পেয়েছেন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিচ্ছেন, তবুও সেনাবাহিনীতে নতুন নিয়োগ নিয়ে সাধারণ রুশদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো কোনো চরম সিদ্ধান্ত রাশিয়ার জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে, যা এমনকি মিত্র দেশ চীনের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।
কৌশলগত দিক থেকে পুতিন এখন এক উভয়সংকটে রয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী কোনো সমঝোতা করলে তা রাশিয়ার জন্য খুব সামান্য অর্জন হিসেবে গণ্য হবে, যা পুতিনের ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, পুতিনবাদের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকেও এক শক্তিশালী ইউক্রেন ও সামরিকভাবে সুসংগঠিত ইউরোপের মোকাবিলা করতে হবে।
বর্তমানে রাশিয়ায় কোনো শক্তিশালী বিরোধী দল বা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন না থাকায় পুতিন একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। তবে কেনান ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কিমেজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রকৃত উন্নয়নের জন্য পুতিনবাদের অবসান জরুরি। বর্তমান ব্যবস্থাটি তার বৈধতা ও কার্যকারিতা হারালে পুতিন-পরবর্তী ক্ষমতার লড়াই আরও তীব্র হতে পারে, যা দীর্ঘদিনের চাপিয়ে দেওয়া স্থিতিশীলতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও পুতিনবাদের প্রভাবে এক গভীর সংকটে পড়েছে রাশিয়া। দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধ ও শাসনব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ