আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়তে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে সুদানে কর্তব্যরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। এছাড়া সাম্প্রতিক বিভিন্ন মিশনে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও তিনি সম্মানিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তিনি বাহিনীর ইমেজ বিনষ্টকারী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে পেশাদারিত্ব, ঐক্য ও চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাইবার যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শান্তিরক্ষী বাহিনীকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।



0 মন্তব্যসমূহ