ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় আজারবাইজানে গোপনে নিজেদের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ দল মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সহজ করতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের যে গোপন নেটওয়ার্ক রয়েছে, এটি ছিল তারই অংশ। আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের উত্তর সীমান্তের খুব কাছে এসব দল অবস্থান নিয়ে কাজ করত, যার মধ্যে একটি অবস্থান ছিল ইরানের তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে।
সূত্রমতে, সেখানে ইসরায়েলের বিশেষ কমান্ডো দল মোতায়েন করা হয়েছিল যারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ড্রোন পরিচালনার কাজ করত। আজারবাইজান ছাড়াও ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের গোপন সামরিক স্থাপনা ছিল বলে জানা গেছে। এসব অগ্রবর্তী অবস্থানের কারণে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণ, পশ্চিম এবং উত্তর সীমানার কাছাকাছি পৌঁছে কয়েক শ মাইল ভেতরে হামলা চালাতে সক্ষম হয়।
বেগিন-সাদাত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গেরশোন কোগান জানান, আজারবাইজানের সঙ্গে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক মূলত অস্ত্র সরবরাহ ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪ মার্চ আজারবাইজান থেকে চালানো এক অভিযানে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান রহমান মোগাদ্দামকে হত্যা করা হয়। ইসরায়েলের দাবি, রহমান মোগাদ্দাম ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাসের মুখপাত্র এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, ইরাকের সামরিক বাহিনীও তাদের দেশে কোনো অননুমোদিত ঘাঁটির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলি আয়রন ডোম ব্যবস্থা মোতায়েনের খবর পাওয়া গেলেও আমিরাত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জশুয়া কুসেরার মতে, এই সম্পর্কের মাধ্যমে আজারবাইজান ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের প্রভাবকে কাজে লাগানোর সুযোগ পায়।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের তথ্য ফাঁস হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও হামলার জন্য এই নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হতো।



0 মন্তব্যসমূহ