মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দ্রুত সচল করে তুলছে ইরান। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেহরান তাদের একাধিক সামরিক ঘাঁটির প্রবেশপথ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, ইরান বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলছে। বিশেষ করে ইসফাহান ও খোমেইন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোতে দ্রুতগতিতে সংস্কার কাজ চলছে। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন-প্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও তাদের হাতে এখনও বিপুল পরিমাণ মজুত রয়েছে। পর্যাপ্ত উৎক্ষেপণযন্ত্র ও প্রশিক্ষিত কর্মী থাকায় তারা যেকোনো সময় পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রায় এক হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গভীর ভূগর্ভে সুরক্ষিত থাকায় সেগুলো বিমান হামলার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির গবেষক তিমুর কাদিশেভ জানান, ইরান গত দুই দশক ধরে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা ছিল এই পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগবে, কিন্তু ইরান সেই সময়সীমার আগেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ফিরিয়ে আনছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যাধুনিক অস্ত্রের আঘাত মোকাবিলায় ইরান অত্যন্ত সাধারণ ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দ্রুত মেরামত করছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ