Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

স্টোররুমে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অফিস সহায়ক মিলন গ্রেপ্তার


বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারী সদরের রামকলা দক্ষিণপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই পরিবর্তনের প্রলোভনে ছাত্রীদের স্টোররুমে ডেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক স্কুল কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।


গ্রেপ্তার মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৩৭) সদর উপজেলার দক্ষিণপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক।সে টুপামারী ইউনিয়নের ঢুলিয়া বাজার এলাকায় আব্দুল হামিদের ছেলে।


মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রী ও সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী তাদের গণিত বইয়ের ত্রুটির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কিশোর অঞ্জন রায়কে অবহিত করে। পরে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তারা লাইব্রেরি স্টোরে দায়িত্বরত মিলন হোসেনের কাছে বই পরিবর্তনের জন্য যায়।


অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ছাত্রীদের একজন করে স্টোররুমে ডেকে নেয়। ভেতরে প্রবেশের পর তিনি তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানায়।

পরদিন (২২ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগী ও তাদের অভিভাবকরা স্থানীয়দের নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে বলে জানা গেছে।


খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে নীলফামারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।


এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৩৩ (তারিখ: ২২ এপ্রিল ২০২৬) এবং জিআর নম্বর ১৪২/২৬ (নীল)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


নীলফামারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) দেওয়ান শাহিন জামান বলেন, “অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন, প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রধান শিক্ষক কিশোর অঞ্জন রায় বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।”


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও প্রতারণা ও নারী হয়রানির অভিযোগ ছিল। কখনো নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অসহায় নারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগও উঠে এসেছে।


ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় কঠোর নজরদারি এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্কুল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও তদারকি আরও জোরদার করা জরুরি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ