কুড়িগ্রামে দিনভর শিশুশ্রম, মজুরি ১৫০ টাকা


নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

আমাদের সংসারে খুবেই অভাব বাবার ইনকাম দিয়ে না কি পরিবার চলে না। তাই মা অন্যের জমিতে কাজ করতে পাঠাইছে। সকাল থেকে বোরো ধানখেতে কাজ করছি। সারাদিন কাজ করলে জমির মালিক কামলার দাম ১৫০ টাকা দিবে। ১৫০ টাকা দিয়ে চাল-সবজি কিনে বাড়িতে নিয়ে যাব।

এভাবেই কথাগুলো বলছিল মাঠে কাজ করতে আসা তিন শিশু। তারা হলো— কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলামের ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির লিমন ও শহীদের ছেলে প্রথম শ্রেণির লিটন।

তারা আরও বলে, বর্তমানে স্কুল বন্ধ, সংসারেও অভাব। এ কারণেই কাজ করছি। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের তো আর চাকরি হবে না। কাজ করে খাইতে হবে। তাই কাজ শিখছি। সংসারে অভাবের কারণে তাদের কাজ করতে পাঠিয়েছেন বাবা-মা  শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী মহাসড়কের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন বোরো ধানখেতে শিশু দিনমজুরদের কাজ করতে দেখা গেছে।

জানা যায়, কুড়িগ্রামে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ফুলকুমারসহ ১৬ নদ-নদীর অববাহিকায় সাড়ে ৪ শতাধিক চরাঞ্চল রয়েছে। এসব চরাঞ্চলে ৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। চরের বেশিরভাগ মানুষ এখনও দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছেন। বিশেষ করে নদ-নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতি বছর ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। এ কারণেই শিশুশ্রমিকের সংখ্যা অন্য জেলার চেয়েও কুড়িগ্রামে অনেক বেশি।

স্থানীয় পলাশ ও হিরা জানান, ‘আমাদের বাড়ির পাশে এ ছেলেগুলো থাকে। কারও বাবা রিকশা চালান আবার কারও বাবা ঢাকায় কাজ করেন। মূলত সংসারে অভাবের কারণে বাবা-মা তাদের কাজ করতে পাঠিয়েছেন। আমরা মনে করি, এ বয়সে এই ছেলেদের মাঠে কাজ করতে দেওয়া ঠিক হয়নি।’

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘আমরাও শৈশবকালে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবাদের সাথে মাঠে কাজ করেছি; তারাও যদি তা করে, আমি মন্দ বলব না। ওই শিশুরা যদি জীবিকানির্বাহের জন্য কাজ করে তাহলে আমি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করছি। কুড়িগ্রাম জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা এসএম বক্কর ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এদের তো মাঠে কাজ করা মোটেও ঠিক না। কিন্তু অনেক পরিবার অভাবের কারণে সন্তানদের মাঠে কাজ করতে পাঠায়। সরকারি আইনে উল্লেখ আছে, ১৪ বছরের আগে কাজ করা নিষিদ্ধ। সেটা আমরা বুঝতেছি। আসলে সরকারের এখানে কিছু করার থাকে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য