বিয়ের কথা বলায় প্রেমিক পলাতক পঞ্চগড়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুনীর অবস্থান


মো. কামরুল ইসলাম কামু, পঞ্চগড়ঃ
 

পঞ্চগড়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন কুড়ি বছর বয়সী এক তরুনী। এদিকে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থানের সময় মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার অভিযোগ করেছে ওই তরুনী। প্রেমিক বিয়ে না করা পর্যন্ত নিজের বাড়িতে ফিরবেনা বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। 

এদিকে ওই তরুনীর বাড়িতে আসার খবর শুনে পালিয়ে গেছে প্রেমিক যুবক। গত শনিবার থেকে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই তরুনী। ঘটনাটি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলই শালশিঁড়ি ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ গ্রামে এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কালিয়াগঞ্জ গ্রামের বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হবিবর রহমানের বাসার আঙ্গিনায় অবস্থানরত ওই তরুনী সাংবাদিকদের জানান, গত দেড় বছর পূর্বে প্রেমিক হবিবর রহমানের ছেলে আব্দুল হান্নানের সাথে পরিচয় হয় তার। প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় প্রায় তাকে প্রেমের সম্পর্ক প্রস্তাব দেয় হান্নান। বিয়ে করবে এই শর্তে এক পর্যায়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। 

প্রথমে প্রতিদিনই মোবাইলে কথা হয় প্রেমিকের সাথে। ধীরে ধীরে প্রেমিক হান্নানের সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে তার। এই মধ্যে ওই তরুনী গর্ভবতি হলে কিছুদিন পূর্বে প্রেমিক হান্নান সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মেরিনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় হান্নান। পরে ওই ইউপি সদস্যের সাথে বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী বাজারে গাইনি চিকিৎসা নেয়। সেখানে গাইনি সমস্যা সমাধান না হওয়ায় বোদা বাজারের একটি বাড়িতে গিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করে। 

তবে প্রেমিক হান্নান তাকে বোদা বাজার হতে গর্ভপাতের জন্য ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার কথা বলে। সম্প্রতি প্রেমিক হান্নানকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় ওই প্রেমিকা। তবে বিয়েতে প্রেমিক হান্নানের পরিবার রাজি হয়নি বলে জানায় হান্নান। প্রেমিকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় আর কোন উপায় না পেয়ে ওই শিক্ষকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ওই তরুনী। 

সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মেরিনা আকতার জানান, দুই পরিবারের সাথে আমার পরিচয় রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের রয়েছে। চিকিৎসার কথা বলে আমার সাথে ময়দানদিঘী ও বোদা বাজারে গিয়েছিল ওষুধের দোকানে ওই তরুনী কিন্তু গর্ভপাতের বিষয়ে আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রেমিক আব্দুল হান্নানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ট করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার বাবা হবিবর রহমান বলেন, হঠাৎ করে ওই তরুনীর আমার বাসায় অবস্থান করা আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র। বর্তমানে আমার ছেলের খোঁজ পাচ্ছিনা। তাছাড়া ওই তরুনীর সাথে এলাকার বেশ কয়েকজন ছেলের সাথে প্রেমের সর্ম্পক আছে।

ঝলই শালশিরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের বলেন, ফকিরপাড়া গ্রামের ওই তরুনী স্কুল শিক্ষক হবিবর রহমানের বাড়িতে অবস্থানের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে মেয়েটির পরিবার। অভিযোগও করেছে। তবে যদি ছেলে পক্ষের কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করে তাহলে আমি বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য