সৈয়দপুরে শ্বশুর পরিবারের রেষে বাড়ি ছাড়া জামাই


মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুরঃ

ঢাকায় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করতে গিয়ে সহকর্মীর সাথে প্রেম আর সেই প্রেম থেকে বিয়ে। দীর্ঘ ১৩ বছরের সংসারে ওই দম্পতির ঘরে রয়েছে দুটি সন্তান। তারপর শশুর পরিবারের নির্যাতন, বাড়ি লুটপাট, মিথ্যা যৌতুক মামলায় বাড়ি ছাড়া হয়েছে রফিকুল ইসলাম নামের ওই জামাই। ঘটনাটি সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বাড়াইশাল পাড়ার। 

এ গ্রামে টিনসেড পাকা বাড়ি নির্মান করে দুই সন্তান আর স্ত্রী মুক্তা বেগমকে নিয়ে বসবাস করে রফিকুল ইসলাম। ২০০৭ সালে সাভারের আশুলিয়ায় নিকাহ্ রেজিস্ট্রার অফিসে ৮০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করে গার্মেন্টস কর্মী ওই দম্পতি। শশুর বাড়িতে জমি কেনার জন্য পাঠানো টাকাই আজ তাকে স্ত্রী-সন্তান ও ভিটে ছাড়া হতে হয়েছে। 

এজন্য স্ত্রী মুক্তা বেগমকে দিয়েই তারা রফিকুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় কল্পিত ২০০৩ সালে বিয়ের কাবিননামা এবং ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার দেনমোহর উল্লেখ করা হয়।

এ নিয়ে কথা হলে নির্যাতনের শিকার রফিকুল ইসলাম তার শ্বশুর পরিবারের নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। এ সময় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন খান লিটন, উজ্জ্বল হোসেন, আব্দুস সালাম, আজিজুল হক, শেখ কবির হোসেন, শাহিনুর ইসলাম, শিবু সরকারসহ গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। 

ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম আদালতের মিথ্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে না এসে এক তরফাভাবে মামলার মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন। এ ছাড়াও বিবাদীকে কৌশলে অফিসে ডেকে নিয়ে বাদীর লোকজনের দ্বারা জোরপূর্বক কিছু কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। 

বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনোবেশ চন্দ্র বাগচী এ প্রসঙ্গে বলেন, নির্যাতনের শিকার রফিকুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে দেয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদী মুক্তা বেগমসহ তার পরিবারের লোকজনদের গ্রাম আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য তিন দফায় নোটিশ করা হয়। কিন্তু তারা হাজির না হওয়ায় বাদীকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্ত গত ৩১ অক্টোবর গ্রাম্য শালিসে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে বিষয়টি শর্ত সাপেক্ষে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। 

কিন্তু রফিকুলের শশুরের চক্রান্তে তার স্ত্রী শর্ত না মেনে বাড়ির সমস্ত মালামাল নিয়ে নিজের বাপের বাড়িতে চলে যায়। পরে আদালতে মনগড়া মামলা করে সে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য