সৈয়দপুরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে শশুর ও দেবরের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা


মিজানুর রহমান মিলন সৈয়দপুরঃ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গৃহবধুর স্বামীকে ইটের আঘাতে হত্যার অভিযোগে শশুর ও দেবরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে নিহতের স্ত্রী। বাড়ির পেঁয়ারা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে পিতার ইটের আঘাতে সনু (৩৮) নামে ওই যুবক নিহত হয়। গতকাল শনিবার রাতে  শহরের গোলাহাট পুলিশ ফাঁড়ির পিছনে আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় স্ত্রী সাজেদা বেগম বাদী হয়ে তাঁর স্বামীকে মাথায় ও মুখে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ এনে শ্বশুর ও দেবরসহ তিনজনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় পুলিশ আজ রবিবার সন্ধ্যায়  নিহত সনুর ছোটভাই কোরবান ওরফে চ্যাপ্টা (৩৫)

কে গোলাহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া ঘটনার পরেই শনিবার রাতে পাষন্ড বাবা মো.ভলুকে (৬০)  গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ রবিবার গ্রেফতারকৃত  সনুর বাবাকে আদালতের মাধ্যমে নীলফামারী জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে,শহরের উল্লিখিত এলাকার বাসিন্দা মো. ভলু। তিনি তাঁর ৪ সন্তান সনু, (৩৮),কোরবান ওরফে চ্যাপ্টা, (৩৫),সুরুজ (৩০) ও চাঁদ (২০) কে নিয়ে একই বসতবাড়িতে বসবাস করেন। 

তাদের বাড়ির ল্যাট্টিনের পিছনে একটি পেঁয়ারা গাছ রয়েছে। গত ৬ নভেম্বর সনুর ছোট ভাই সুরুজ তাদের বাড়ির ল্যাট্টিনের পিছনে থাকা পেয়ারা গাছটি আকস্মিক কেটে ফেলে। আর পেঁয়ারা গাছটি কেন কাটা হয়েছে জানতে চাইলে সনুর সঙ্গে তাঁর বাবা ও ভাইদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময়  তার স্বামী সনুকে মারপিট করা হয়৷ এসময় স্থানীয়,লোকজন এগিয়ে এসে সনুকে রক্ষা করা হয় উল্লেখ করে মামলার অভিযোগে বলা হয় একই কারণে গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার সনুর সঙ্গে তাঁর বাবা ও তিন ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া বাঁধে। 

এক পর্যায়ে তারা ইট দিয়ে সনুর মাথায় ও মুখে আঘাত করেন। এতে সে মাথা ও মুখে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুতর আহত হয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাজেদা বাদি হয়ে তার শ্বশুর মো. ভলু ও তিন দেবর কোরবান আলী ওরফে চ্যাপ্টা, সুরজ ও চাঁনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান। তিনি বলেন, মামলার প্রধান আসামী বাদীর শশুর ভলুকে গতকাল শনিবার ও দেবর কোরবানকে আজ রবিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার এজাহারভূক্ত অন্য আসামীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা  অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন গেলাহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. রেজওয়ানুল হক মন্ডল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য