মিঠাপুকুরে মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে দুই গ্রুপের বিরোধ চরম উত্তেজনা

রুবেল ইসলাম,রংপুরঃ
মিঠাপুকুরে একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা নিয়ে এলাকাবাসি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। নামাজ আদায় করতে না পেরে একটি পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় মসজিদের আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

গতকাল রোববার উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের নতুন বাজারে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দ নতুন বাজারে দীর্ঘদিন থেকে মসজিদে ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করে আসছে স্থানীয় মুসল্লীরা। 

সম্প্রতি, মসজিদটিতে জুমা’র নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত হয়। রমজান মাসে শুক্রবার জুমা’র নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু একটি পক্ষ জুমা’র নামাজে বাধা দেয়। এ নিয়ে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। 

গত শুক্রবার জুমা’র নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এসময় অন্য পক্ষের বাধার কারণে উত্তেজনা সুষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ অবস্থান নেয়। 

এর ফলে, মসজিদটিতে জুমা’র নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন, মিজানুর রহমান, ফিরোজ, রেভিন, ডা. রেজা জানান, সবার পরামর্শ ও আলোচনা স্বাপেক্ষে রমজান মাসে শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় শুরু হয় এবং ইদুল ফিতরের জামায়াতও অনুষ্ঠিত হয়। 

তারা আরও বলেন, বেশিরভাগ মুসল্লী জুমা’র নামাজ পড়ার পক্ষে থাকলেও কিছু মুসল্লী এর বিপক্ষে।’  স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, পার্শ্ববর্তী মসজিদগুলোতে মুসল্লী দিয়ে পরিপূর্ণ হয়, ফলে বাজার মসজিদে শুক্রবারে জুমা’র নামাজ হলে সমস্যার কিছু নেই। 

তিনি আরও বলেন, পুলিশ আপাতত নিষেধ দিয়েছে, তবে এমপি স্যার এসে এর একটা সমাধান করবেন। 

মসজিদের ইমাম আবদুল আউয়াল বলেন, জুমা’র নামাজ হবে না মর্মে পুলিশ আমাকে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে সেখানে শুক্রবার জুমার নামাজ হয়নি । 

 পায়রাবন্দ নতুন বাজার মসজিদের সভাপতি ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিগত ২০১১ থেকে দায়িত্বে রয়েছি। ইতোপূর্বে এ মসজিদে ওয়াক্তিয়া নামাজ হতো। বর্তমান কমিটি ও মুসল্লীদের সাথে আলোচনা করে রমজানের শেষের দিক থেকে শুক্রবারে জুম্মার নামাজ শুরু করা হয়। 

গত শুক্রবার স্থানীয় আনোয়ারুল মোর্শেদসহ কয়েক জন জুমা’র নামাজের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে পুলিশ পাঠিয়ে জুম্মার নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে। অথচ বৃহস্পতিবার রাতে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ বলে গেছেন, জুমার নামাজ পড়তে পারবেন। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এমপি স্যার এসে এর একটা সমাধান করবেন, এখানে বিরোধের কিছু নেই। 

মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, আমরা কাউকে জুমার নামাজ আদায়ের অনুমতি কিংবা নিষেধ কোনটিই করিনি। উভয় পক্ষকে বিরোধের নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দিয়েছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য