নদীতে ঝাঁপ দেওয়া সেই ২ সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার

দুই শিশুসন্তানের সামনে সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া সেই নারীর লাশ চার দিন পর উদ্ধার হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা ইটভাটা এলাকায় মধুমতী নদীতে লাশ ভেসে উঠলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তা উদ্ধার করেন।
গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই শিশুসন্তানের সামনেই বাগেরহাটের সীমান্তবর্তী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী শেখ লুৎফর রহমান সেতু থেকে মধুমতী নদীতে ঝাঁপ দেন আফরোজা খানম (২৩) নামে ওই নারী। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাঁকে উদ্ধারে অভিযান চালায়। আজ ঘটনাস্থলের আধা কিলোমিটার দূরে লাশ ভেসে ওঠে।
আফরোজা গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার সোনারগাতী গ্রামের ওমানপ্রবাসী অলিউর জামানের স্ত্রী।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম বলেন, চার দিন আগে ওই নারী সেতু থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েছিলেন। সকালে লাশ ভেসে উঠলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করেন। নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের আবেদন করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আফরোজার পরিবারের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হবে।
আফরোজা কী কারণে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পারিবারিক কলহে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা পুলিশের।
কোটালীপাড়া উপজেলার সোনারগাতী গ্রামের বাকা তালুকদারের ছেলে আলিমুজ্জামানের সঙ্গে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আফরোজা বিয়ে হয় ২০১১ সালে।
টুঙ্গিপাড়ার গওহরডাঙ্গা গ্রামে ভাড়াবাড়িতে মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে থাকতেন আফরোজা। স্বামী থাকেন ওমানে। বড় মেয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলেটি এখনো স্কুলে যায় না।
আফরোজার ভাই মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আফরোজার স্বামী বিদেশে থাকলেও ঠিকমতো টাকা পাঠাতেন না। এ নিয়ে বোন ও ভগ্নিপতির মধ্যে কলহ চলছিল। অসচ্ছলতাসহ সাংসারিক সমস্যার কারণে তাঁর বোন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
আফরোজার ছয় বছর বয়সী মেয়ে ও সাড়ে চার বছর বয়সী ছেলেসন্তান। ওই দুই শিশু এখন তাদের বড় খালা মাকসুদা বেগমের কাছে আছে।
আফরোজার মেয়ে সাংবাদিকদের কাছে বলে, সেদিন তাদের দুজনকে সেতুর মাঝে দাঁড় করিয়ে মা বলেছিলেন নদীতে টাকা পড়ে গেছে, তিনি টাকা আনতে যাচ্ছেন। এ বলে নদীতে ঝাঁপ দেন।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই নারী সেতু থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সন্তানের চিৎকারে লোকজন ছুটে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকে করে বোরকা পরা এক নারী দুই সন্তানকে নিয়ে সেতুর ওপর নামেন। কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে ওই নারী তাঁর সন্তানদের কাছে ব্যাগ ও মুঠোফোন রেখে নদীতে ঝাঁপ দেন।
/প্রথম আলো। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য