যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পূর্বের ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ইরানে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো হামলা শুরু করার আপাতত কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নাও দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, তারা এবং তাদের অস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু হয়তো এর কোনো কারণই তৈরি হবে না। ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থানকে চমৎকার পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তেহরানের ওপর বর্তমানে যে চাপের ভারসাম্য বজায় রয়েছে, তাতেই তার প্রশাসন সন্তুষ্ট। তিনি দাবি করেন, তারা যা চাচ্ছেন তার সবকিছুই যেন পাচ্ছে ওয়াশিংটন। সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যুক্তি দেখান যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো প্রচলিত বা বড় ধরনের সংঘাতে লিপ্ত নয়। অতীতের সামরিক অভিযানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে অতীতে তারা ইরানের ওপর আঘাত হেনেছিলেন এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছিলেন। তাই একে কোনো বড় যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা চলে না। তবে ইরানের কাছে মজুত থাকা ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জানান, এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে এই উপাদানের একটি বড় অংশ আগের হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, তবুও এই মজুত সেখানে পড়ে থাকাকে সন্তোষজনক মনে করছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে এটিও অন্যতম বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পূর্বের ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আপাতত ইরানে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ