ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ১৩টি ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপের তালিকা প্রকাশের পর স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে, ভগ্নিপতি এবং ভাগনে-বউয়ের নাম থাকার বিষয়টি জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় লোকজন ও ডিলারশিপ প্রত্যাশীরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ডিলারশিপের এই তালিকা প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোকর্ণ ইউনিয়ন থেকে এমপি হান্নানের ছেলে আদনান সাদী মেসার্স আলীয়াহ ট্রেডার্স নামে, নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন থেকে এমপির ভগ্নিপতি আরক মিয়া মেসার্স আয়ান ট্রেডার্স নামে এবং গোয়ালনগর ইউনিয়ন থেকে এমপির ভাগনে শরীফের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা এস এস ট্রেডার্স নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও এই স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার ১০১টি ইউনিয়ন ও ৫ পৌরসভায় ১০৬টি সারের ডিলারশিপের জন্য ৮২৫ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে ২৯২ জনের আবেদন সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিন জনের নাম সুপারিশ করে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জেলা কমিটি ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং জমাকৃত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সে সময় তালিকায় প্রথম নাম রাখা নিয়ে অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ ওঠে। অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান জানান, উপজেলা থেকে যেসব নাম এসেছে, সেগুলোই সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং এর মধ্যে দুই-একটি এদিক-সেদিক হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় তার জানা নেই, তবে উপজেলায় তালিকার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ থাকতে পারে এবং তালিকা প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কাছে কিছু অভিযোগ জমা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানান, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে এখন পর্যন্ত চারটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন যে স্টাফদের কারণে একটি নাম ভুল হয়েছে এবং বাকিগুলো এলাকাভিত্তিক। এমপির স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উপজেলা কমিটি যাদের যোগ্য মনে করেছে তাদের মনোনীত করেছে এবং ঘুরেফিরে এমপির স্বজনরা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কমিটির সবাই তাদের যোগ্য মনে করলে তাদের পক্ষ থেকে কিছু করার নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সারের ডিলারশিপের তালিকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে ও স্বজনদের নাম আসায় স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ডিলারশিপ প্রত্যাশীরা।



0 মন্তব্যসমূহ