ভোলার বোরহানউদ্দিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সর্বকালের সেরা প্রধান শিক্ষক মান্নান স্যার ৯৫ বছর বয়সে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অনন্তলোকে পাড়ি জমান। তাঁর প্রিয় স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে চিরবিদায় জানানো হয়। ১৯৫৪ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর ১৯৫৬ থেকে ১৯৯৩ সালের জুন পর্যন্ত টানা ৩৭ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বহুবার জেলা এবং যশোর বোর্ডের সেরা প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছ থেকে খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বর্ণপদক ও ১০ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭০ সালের বন্যার পর পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করলে স্কুলের হাইবেঞ্চ পুড়িয়ে রান্নার প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। পাকিস্তানি সেনারা স্যারসহ ইংরেজি শিক্ষক প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেন এবং ছাত্রদের নামে মামলা করলেও তিনি দমে যাননি। বরং মুক্তিযুদ্ধকালে স্কুলের বোর্ডিংয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করাসহ তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেন। বাংলা, ইংরেজি, গণিত থেকে শুরু করে ধর্ম ও সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। শিক্ষকদের সবসময় সম্মানজনক ভাষায় সম্বোধন করতেন এবং চেয়ারের সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন ও আদর্শের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে স্মরণ করছেন। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি শিক্ষা ও সততার আলো ছড়িয়ে গেছেন।
ভোলার কিংবদন্তিতুল্য শিক্ষক মান্নান স্যারের বর্ণাঢ্য জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং তাঁর স্মৃতিচারণ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।



0 মন্তব্যসমূহ