কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার তিনটি গ্রামে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া ও লাংটিয়া এবং পৌর এলাকার বেথৈর গ্রামে রাত নামলেই ভুতুড়ে নীরবতা নেমে আসছে। পুলিশের মামলায় যেকোনো সময় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় পুরুষদের অনেকেই বাড়িছাড়া হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে, পুরুষশূন্য বাড়িতে নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্ক এবং ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে। ওই দিন পৌরসভার বেথৈর এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে প্রিয়া নামের এক নারীকে আটক করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হন, যার মধ্যে একজন রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই কটিয়াদী মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কটিয়াদী পৌর মহিলা বিএম কলেজের প্রভাষক মো. ছোটন মিয়া (৩২), মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ ওয়ার্ডের সদস্য মো. সামসুদ্দিন (৩৫), কটিয়াদী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এনামুল হক ইস্তি (১৯), বেথৈর রইছ মাহমুদ উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. বাইজিদ ইসলাম (২৬) এবং বেথৈর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী জুঁই আক্তার (২৮)।
পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজ দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদেরই কেবল আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের দাবি, তাঁরা সবাই নিরপরাধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা হিসেবে উপস্থিত থাকলেও আইনবিরোধী কোনো কাজের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।
এদিকে ঘটনার পর থেকে বেথৈর আনন্দবাজারসহ স্থানীয় বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও বেচাকেনা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফেসবুকে শত শত মানুষের নামের তালিকা ছড়িয়ে পড়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এই পরিস্থিতির অবসান ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গুজবে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
কটিয়াদীতে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তিন গ্রামে বিরাজ করছে গ্রেপ্তার-আতঙ্ক। পুরুষশূন্য বাড়িগুলোতে ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নারী ও শিশুরা। পুলিশ বলছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ