কুয়াকাটায় দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনাটি নির্মাণ করায় এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমুদ্রের ধারে পাঁচতারকা হোটেল, কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ সম্বলিত এই প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি মরহুম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত প্রকল্পটির প্রচার চালিয়ে আসছেন। প্রচারে সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগের সুযোগ, বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট সময়ে বিনামূল্যে থাকার সুবিধা এবং বছর শেষে মুনাফার ভাগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিনিয়োগের শর্ত, সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ও লভ্যাংশের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানিয়েছেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের মধ্যে পড়েছে। অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কলাপাড়ার লতাচাপলী মৌজায় প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমির ওপর এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া জমির মালিকানা নিয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের উমাচ্যান নামের এক ব্যক্তি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন না থাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং তিনি দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন।
কুয়াকাটায় অনুমোদন না থাকায় শরিয়াহসম্মত ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করেছে প্রশাসন। এই প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী।



0 মন্তব্যসমূহ