তৃতীয় ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির বা এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্ট পুনরায় আলোচনায় এসেছে। বুধবার চৌদ্দই অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত পাঁচ সেপ্টেম্বরের ওই পোস্টটি শেয়ার করেন হাসনাত। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই বিতর্কিত এফএসআরইউ বা ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কেবিনেট কমিটি বাতিল করে দিয়েছে এবং সরকারের সাধারণ কাজও এভাবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করে সম্পন্ন করাতে হয়। এর আগে গত পাঁচ সেপ্টেম্বরের মূল পোস্টে হাসনাত দাবি করেছিলেন, দেশের মানুষকে সংকটে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের অর্থে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সন্তান ও নাতিদের পকেট ভারী হয়। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পূর্বের দুটি এফএসআরইউর তুলনায় প্রায় সাঁইত্রিশ শতাংশ বেশি দৈনিক ফি দিয়ে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব আনা হয়েছিল। চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি বা সিএনইইর প্রস্তাব অনুযায়ী ওই টার্মিনালের জন্য দৈনিক তিন লাখ বিয়াল্লিশ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। হাসনাতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের জন্য দৈনিক দুই লাখ চুয়ান্ন হাজার ডলার এবং সামিট এলএনজি টার্মিনালের জন্য দৈনিক দুই লাখ উনপঞ্চাশ হাজার একশো পনেরো ডলার খরচ হয়। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি বা আরপিজিসিএলের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় তৃতীয় টার্মিনালের জন্য দৈনিক দুই লাখ ঊনচল্লিশ হাজার ছয়শো তিপ্পান্ন ডলার ফি সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। সেই হিসাবে চীনা কোম্পানির প্রস্তাবিত ফি সুপারিশকৃত অঙ্কের চেয়ে প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাਤੇ হাসনাত আরও জানান, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত আঠারো জুলাই সিএনইইর প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। এরপর পেট্রোবাংলার সাত সদস্যের সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গত ত্রিশ আগস্ট সরকারের কাছে দুটি বিকল্প প্রস্তাব পেশ করে। যার একটি ছিল দৈনিক তিন লাখ বিয়াল্লিশ হাজার ডলারে পনেরো বছরের চুক্তি এবং অন্যটি দৈনিক তিন লাখ উনত্রিশ হাজার ডলারে কুড়ি বছরের চুক্তি। এদিকে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের এই প্রস্তাবের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও তুলেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার দাবি অনুযায়ী, গত বারো মে এনএস এনার্জি নামক একটি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দাখিল করেছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও তারিফ রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নাতি বলে দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে সিএনইইর নাম সামনে এলেও এর সঙ্গে এনএস এনার্জির সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। তারিফ রহমানের বাবা আশফাক জামিল রহমান এনএস এনার্জির প্রকৃত মালিক বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব দাবির সপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত কোনো প্রমাণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ফলস্বরূপ, তৃতীয় এলএনজি টার্মিনালের প্রস্তাবিত ব্যয়, চুক্তির মেয়াদ এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে জনমনে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং হাসনাতের পুরোনো পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করার মধ্য দিয়ে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব ও এর ব্যয় নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে।



0 মন্তব্যসমূহ