ছাত্রদল নেতাদের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে দপ্তরে বসার ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই সঙ্গে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মবিরতিও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ। তিনি জানান, বহিরাগতদের সহায়তায় নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে উপস্থিতির বিষয়টি তারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছেন এবং এ ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার উপাচার্যকেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, চুয়েট পরিবার বর্তমান উপাচার্যকে মেনে নিচ্ছে না এবং শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার ঘটনায় তারা শঙ্কিত। তাই সরকার দ্রুত এই সংকট নিরসন করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য পদে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের মুখে এতদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারলেও সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে চড়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছান নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এরপর তিনি উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয় এবং তা না মানায় শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তালাবদ্ধ অবস্থার বিষয়ে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ দাবি করেন, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলন হচ্ছে এবং সকালে ফুল নিয়ে আসার সময় তাদের এক নেতাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এছাড়া সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনকে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন এবং তার কাছ থেকে ফুল ও খাবার কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলেন।
ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে দপ্তরে ঢুকলেন চুয়েটের নতুন উপাচার্য। এই ঘটনার প্রতিবাদে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।



0 মন্তব্যসমূহ