কক্সবাজারের উখিয়ায় সমুদ্র সৈকতের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ যশোরে দাফন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চার কবরে দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুসন্তান রোজাইনা ইনায়া (৭) ও মুনাইনা ইহানা (৩)। তারা রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। গত ১৭ অক্টোবর ভোরে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই পরিবারসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মরদেহ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ১০ দিন পর মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান। বুধবার সকালে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাঁধাঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাদের জানাজা সম্পন্ন হয়। একসঙ্গে একটি পরিবারের চারজনকে হারানোর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। এদিকে স্বজনদের অভিযোগ, অনুমতিবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টের অব্যবস্থাপনার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। নিহত নাহিদুরের ফুফা আব্দুল লতিফ রিসোর্টগুলোর অব্যবস্থাপনা সংস্কার ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। নাহিদুরের বাবা মতিয়ার রহমান একে দুর্ঘটনা নয় বরং হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে অবৈধ রিসোর্টগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জানাজায় অংশ নেওয়া মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন জানান, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসন থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পূজার ছুটিতে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন নাহিদুর ও তার পরিবার। ১৮ অক্টোবর তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা থাকলেও তার আগেই ১৭ অক্টোবর ভোরে ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ যশোরে দাফন করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা শেষে মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।



0 মন্তব্যসমূহ