কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে জমি কিনে নিজের বাড়ি বা স্থাপনা করার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গেলে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার হতে হয়। প্রতিটি দপ্তরের অনুমতি নিতে গিয়ে বছর পেরিয়ে গেলে সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তারা হতাশ হন। আইন মেনে, পরিবেশ রক্ষা করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই স্থাপনা নির্মাণ করা উচিত, তবে সেই অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়ম মেনে সেবা না পেয়ে কেউ নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করলে শুধু তাঁকে দায়ী না করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহিও খতিয়ে দেখা দরকার। সম্প্রতি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান ও ভাঙচুরের খবর সামনে এসেছে। এছাড়া টুকটুক রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দশ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে যে পর্যটন স্থাপনায় নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণ করে যেসব স্থাপনায় অগনিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। পর্যটকদের জীবন নিয়ে কোনো আপস করা চলবে না। একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি না করে আইন মেনে যাঁরা বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কেবল হোটেল-মোটেল নির্মাণ যথেষ্ট নয়, বরং পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট, পরিকল্পিত বিনোদনকেন্দ্র এবং মানসম্মত পর্যটনসেবা নিশ্চিত করা দরকার। উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত না করে সহজ শর্তে ও নির্দিষ্ট সময়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, কক্সবাজারের কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা বা অর্থের বিনিময়ে অবস্থান নেওয়ার মতো কিছু অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রেসক্লাবেও কথাকাটাকাটি হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না এবং এর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। অপরাধ প্রমাণিত হলে সাংবাদিক পরিচয় থাকলেও তিনি জবাবদিহির বাইরে থাকবেন না। সাংবাদিকতার কাজ কাউকে হয়রানি করা নয়, বরং অনিয়মের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরা। কক্সবাজার কেবল একটি পর্যটন শহর নয়, এটি দেশের আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্ভাবনার অন্যতম কেন্দ্র। তাই পরিবেশ রক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারে পর্যটন খাতের উন্নয়নে সহজ অনুমোদন প্রক্রিয়া, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পর্যটন খাতের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ