সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা ‘মক্কা প্যাক্ট’-এ যোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (২) শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, এই জোটে যোগদানের ফলে দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি এবং জনগণের জন্য কী ধরনের সুফল আসবে, তা আগে নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্মিলিত নিরাপত্তার লক্ষ্যে এই প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে তা জোটের সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এটি কেবল সামরিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। তবে শেষ পর্যন্ত দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাস্তব অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানান।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক লাভ মূল্যায়ন করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



0 মন্তব্যসমূহ