দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচ্য বিষয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ হলেও নেপথ্যে আলোচনায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানি হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলায় রাশিয়া পূর্বের ধারণার চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএন-এর তথ্যমতে, রিয়াদে সিআইএ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন সেনাসদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে তেহরানকে মস্কো সহায়তা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি জানান, ইরানের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি বেশ বাস্তবসম্মত। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, রাশিয়ার উন্নত সামরিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ইরানকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে তেহরান ও মস্কোর সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, যার ফলে তারা ২০ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। যদিও রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে রুদেনকো এই চুক্তিকে সরাসরি সামরিক জোট বলতে নারাজ। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এই তৎপরতা রাশিয়ার জন্য সুবিধাজনক, কারণ এটি ইউক্রেন থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে এবং বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার প্রভাব পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে পড়ছে।
ম্যানিলায় মার্কিন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ওয়াশিংটন।



0 মন্তব্যসমূহ