মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কার্যকর হওয়া ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে এখন থেকে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হবে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। মূলত জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অসামঞ্জস্য দূর করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথিউ হোমস জানান, জোরপূর্বক শ্রম মোকাবিলায় কানাডা বিশ্বে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে, তাই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা ঠিক হয়নি। তিনি এ ধরনের সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষীয় উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন খাত সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অন্য দেশগুলোর অন্যায্য বাণিজ্যনীতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, এই শুল্কনীতি নিয়ে আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। এর আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, শান্তিকালীন সময়ে শুল্ক আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের রয়েছে, প্রেসিডেন্টের নয়। পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালান উলফ মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তাদের এই নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করছে।
ভারত ও চীনসহ ৮০টির বেশি দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর হবে। বাণিজ্য সুরক্ষা ও মানবাধিকার রক্ষায় এই পদক্ষেপ বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।



0 মন্তব্যসমূহ