২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের লড়াই শেষ হলেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই আসরের পরিবেশগত প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত ৪৮টি দলের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী আসর হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই আসরে সম্ভাব্য কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ প্রায় ৪.২ থেকে ৭.৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য, যা একটি ছোট দেশের বার্ষিক নিঃসরণের কাছাকাছি।
এই দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিমান ভ্রমণকে। তিনটি দেশের বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিয়মিত আকাশপথ ব্যবহার করতে হয়েছে। এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনঘন আন্তনগর বিমান ভ্রমণ নিয়েও পরিবেশবাদীদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রভাবও ছিল ব্যাপক। কোটি কোটি জার্সি ও ফ্যান মার্চেন্ডাইজ বিক্রির ফলে তৈরি হয়েছে বিশাল ভোক্তা অর্থনীতি। তবে এর বিপরীতে ভিনটেজ বা পুরোনো জার্সি ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা পরিবেশ রক্ষায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তর আমেরিকার তীব্র তাপপ্রবাহে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও ম্যাচের সময়সূচি নির্ধারণে আয়োজকদের বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এছাড়া লাইভ স্ট্রিমিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টারের ব্যবহারের ফলে ডিজিটাল কার্বন ফুটপ্রিন্টও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফিফা ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নেট-জিরো লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে পরীক্ষা রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বকাপের জার্সি ও পোশাকের বড় একটি অংশ এদেশেই তৈরি হয়। হাল ফ্যাশন-এর প্রধান ও সাবেক ক্রীড়া সাংবাদিক শেখ সাইফুর রহমান তার মতামতে উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে এখন থেকেই টেকসই ও সার্কুলার ফ্যাশনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত নীতিমালার কারণে ভবিষ্যতে শুধু উৎপাদন নয়, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিই হবে প্রতিযোগিতার মূল চাবিকাঠি।
২০২৬ বিশ্বকাপের বিশাল আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ কার্বন নিঃসরণের তথ্য। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দূষণকারী এই আসর এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত জানুন।



0 মন্তব্যসমূহ