দেশের প্রতিটি প্রান্তে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমটি বর্তমানে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যাদের জন্য স্থায়ী লাইব্রেরিতে যাওয়া কঠিন, তাদের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দিতেই এই চলমান পাঠাগারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহর ও জেলায় এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সেবা প্রদান করছে। বিশেষভাবে তৈরি এসব বাসে সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও শিশুতোষসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ের বইয়ের বিশাল সংগ্রহ থাকে। পাঠকরা নির্দিষ্ট সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে এই লাইব্রেরি থেকে বই সংগ্রহ করতে পারেন এবং পরবর্তী সফরে তা ফেরত দিয়ে নতুন বই নিতে পারেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ ও অভ্যাস খুব সহজেই তৈরি হচ্ছে।
নব্বইয়ের দশক এবং দুই হাজারের শুরুর দিকে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের কাছে এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ছিল এক রোমাঞ্চকর স্মৃতির নাম। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধিপত্যের আগে বইয়ের প্রতি মানুষের যে নির্মল আকর্ষণ ছিল, তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এই উদ্যোগ। অনেক পাঠকই স্বীকার করেন যে, এই লাইব্রেরির মাধ্যমেই তাদের প্রথম সাহিত্য বা প্রিয় লেখকের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল।
প্রযুক্তির এই যুগে পাঠাভ্যাস নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি এখনো জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল বই পড়ার মাধ্যম নয়, বরং মানুষের কল্পনাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদকের মতে, এই উদ্যোগটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে বইয়ের সঙ্গে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে এবং মানুষের মননশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি দেশের মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দিয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলছে। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের এই অনন্য উদ্যোগ কয়েক প্রজন্মের শৈশবকে করেছে সমৃদ্ধ ও জ্ঞানালোকিত।



0 মন্তব্যসমূহ