যশোরের মনিরামপুরে নদ খননের মাটি নিলামের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, হাট ইজারা সংক্রান্ত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে। জেলা জামায়াতের নির্দেশনায় গত শুক্রবার আয়োজিত এক সাংগঠনিক সভা শেষে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন—উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আহসান হাবিব লিটন ও ফারুক হোসেনকে দুই মাস এবং মহিউল ইসলামকে তিন মাসের জন্য পদ থেকে স্থগিত রাখা হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে উপজেলা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান এই ঘোষণা দেন। জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল মনিরামপুরের হরিহর নদ খননের মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, হাট ইজারায় অংশগ্রহণের নামে অর্থ উপার্জন এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক তিন নেতার পদ সাময়িক স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। তবে তিনি চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত নেতা আহসান হাবিব লিটন পদ স্থগিতের কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলমও পদ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যশোরের মনিরামপুরে মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা জামায়াত এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।



0 মন্তব্যসমূহ