গাইবান্ধার সাঘাটায় ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলা শহর। সোমবার দুপুরে গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার চত্বর থেকে শত শত নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলার সাতটি উপজেলা থেকে আসা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা পৌর জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফেরদৌস আলম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাহিদুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে সারা দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেলে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাইফুল্লাহ বারী উপজেলার শিমুলতাইড় গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাওলানার ছেলে। এই ঘটনায় সালাউদ্দিন নামে আরও এক জামায়াতকর্মী গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাইবান্ধার সাঘাটায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।



0 মন্তব্যসমূহ