দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের ৫৫তম এবং সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এই বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারেরও এটি প্রথম বাজেট। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন এবং ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নতুন কিছু কর্মসূচি যুক্ত হতে পারে। বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবসহ ব্যবসা সহজ করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে এই বাজেটে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট পেশ করছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এই বিশাল বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।



0 মন্তব্যসমূহ