শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার সকালে নদীর পানি উপচে ঝিনাইগাতী সদর বাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। আকস্মিক এই বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তলিয়ে গেছে এবং অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থায়ী শহর রক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই ঝিনাইগাতী সদর বাজার ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা নাদরুজ্জামান ইমন জানান, সকালে মহারশি নদীর দক্ষিণ তীরের বাঁধ উপচে পানি প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে শুরু করেছে। তবে নির্মাণাধীন বাঁধের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নাকুগাঁও পয়েন্টে সর্বোচ্চ ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার ও শেরপুর পয়েন্টে ২৪.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, বাজারের ড্রেনের মাধ্যমে নদীর পানি প্রবেশ করলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল জানান, মহারশি নদীতে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং দ্রুতই এর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
শেরপুরে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ঝিনাইগাতী সদর বাজারসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেকসই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।



0 মন্তব্যসমূহ