ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যের পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকার মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে কয়েক শত সাধারণ গ্রাহক অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় জলকামান ও সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিক্ষোভকারীরা ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান। মানববন্ধনে আব্দুল হান্নান খন্দকার নামে এক গ্রাহক বলেন, ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসলেও বিগত সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে পুনরায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কর্মসূচিতে আবুল খায়ের আজাদ নামে আরেক গ্রাহক গত সোমবারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যানকে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তাদের সহায়তায় এই ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া ওমর ফারুক খানকে গ্রাহকবান্ধব কর্মকর্তা উল্লেখ করে তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে গত সোমবারও একই স্থানে বিক্ষোভ হয়েছিল, যেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ ও সাবেক এমডির পুনর্বহাল দাবিতে মতিঝিলে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও জলকামান।



0 মন্তব্যসমূহ