রাজবাড়ীর পাংশায় রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে জুয়েলারি দোকানের মালিককে অচেতন করে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণ, রৌপ্য ও নগদ টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাংশা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাংশার নারায়ণপুরের দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলার ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’ দোকানের মালিক শহিদুল ইসলাম গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় তার দোকান থেকে ২০ ভরি স্বর্ণ, ২০০ ভরি রূপা এবং নগদ প্রায় দুই লাখ টাকাসহ মোট ৬৫ লাখ টাকার মালামাল খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে পাংশা মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩২৮ ও ৩৮১ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পাওনা টাকা তোলার কথা বলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দোকান মালিক শহিদুল ইসলামকে জলিলপাড়ায় লিটনের বোনের বাড়িতে নিয়ে যান কর্মচারী লিটন ও তার সহযোগী। সেখানে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে শহিদুল ইসলামকে খাওয়ানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার পকেট থেকে চাবি নিয়ে লিটন দোকানে ফিরে আসেন এবং কৌশলে অন্য কর্মচারীকে বাইরে পাঠিয়ে আলমারি ভেঙে স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা লুট করেন। চুরির পর চাবিটি পুনরায় অচেতন শহিদুলের পকেটে রেখে তাকে দত্ত মার্কেট মোড়ে ফেলে পালিয়ে যান আসামিরা। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃত লিটনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার (যার আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ২১ হাজার টাকা) এবং ২২০ ভরি রৌপ্যালঙ্কার (যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা) উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত লিটনকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।
রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে জুয়েলারি দোকানের মালিককে অচেতন করে ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণ ও টাকা লুটের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত কর্মচারীকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।



0 মন্তব্যসমূহ