দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নই জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার 'কৃষি কার্ড' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের জমির পরিমাণ ও সারের চাহিদার তথ্য সরকারি রেকর্ডে থাকবে, যা ফসল তোলার আগেই সঠিক বাজার পরিকল্পনা গ্রহণে সরকারকে সহায়তা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কার্ডের মাধ্যমেই কৃষকদের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুর রহিম জানান, ২০২৩ সালে ৩০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি জেলার ৩১টি উপজেলার ৬৩৩টি চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এই প্রকল্প শুরু হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ৬৫ হাজার পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। বর্তমানে প্রকল্পের ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদীভাঙন কবলিত মানুষ যাতে ভিটেমাটি হারিয়ে শহরমুখী না হয়, সেজন্য তাদের চরাঞ্চলেই পশুপালন ও মৎস্য চাষে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে খামারিদের মাঝে বকনা বাছুর, গোখাদ্য ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরে মন্ত্রী মাথাভাঙ্গা খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
কৃষকের উন্নয়ন ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মুন্সীগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিক শক্তিই দেশের মূল ভিত্তি।



0 মন্তব্যসমূহ