খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই অঞ্চলে বর্তমানে ১১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। দিন ও রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মিল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাবে কোথাও কোথাও পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় খুলনা জোনে ৫২২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৪০৬ মেগাওয়াট। একই সময়ে বরিশাল জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১২৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়। দুই জোন মিলিয়ে মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৪৬ মেগাওয়াট। ওজোপাডিকোর তথ্যমতে, ৩১ আগস্ট দুপুর ১টায় খুলনা অঞ্চলে ১২৩ মেগাওয়াট এবং বরিশাল অঞ্চলে ৫৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ওইদিন খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জেলায় ২৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়।
খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকার বাসিন্দা মো. শাহরিয়ার রাব্বি জানান, শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত নয়বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে, যেখানে প্রতিবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) খুলনা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা এই পরিস্থিতিকে অর্থনৈতিক নির্যাতন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কল-কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সংকট উত্তরণে তিনি সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দেন এবং এ খাতে উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান।
খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়ছে অর্থনৈতিক উদ্বেগ।



0 মন্তব্যসমূহ