হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণে সমঝোতায় পৌঁছেছে ওমান ও ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই পথের বিষয়টি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি মোজতবা খামেনিকে অবহিত করা হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ১৩ সদস্যের মধ্যে ১২ জনই এই চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তবে কৌশলগত এই জলপথটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, নতুন বিনিয়োগ শুরু করা এবং লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, জাহাজ চলাচলের জন্য একটি সাময়িক করিডোর খুলতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে এবং বিষয়টি এখন বাস্তবায়নের পথে।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও কোনো মন্তব্য না করলেও মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দিয়েছে মার্কিন পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। এটি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং প্রায় সাত মাস এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সমঝোতা কার্যকর থাকাকালীন ব্যাংকিং ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় ইরান প্রায় ৯০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল। সে সময় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনাও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় আগের সমঝোতাটি ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে এগোচ্ছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণে সমঝোতায় পৌঁছেছে ওমান ও ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে এই কৌশলগত জলপথটি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।



0 মন্তব্যসমূহ