ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার পরিণাম হবে অত্যন্ত বিধ্বংসী।
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘আগ্রাসনকারীর শাস্তি’ শীর্ষক একটি যৌথ অভিযানের আওতায় জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল আজরাক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কারিগরি ও মেরামত অবকাঠামোসহ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে সেখানে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হলেও বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডান কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে যে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে। প্রতিটি হামলার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। এদিকে, আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মোহেবি লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলাকে একটি ‘কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে তিনি জানান, এই পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চড়া মূল্য দিতে হবে। লারাক দ্বীপে হামলা এবং এর পাল্টা জবাবে জর্ডানে মার্কিন স্থাপনায় হামলার এই পাল্টাপাল্টি দাবি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ