কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক বইমেলা এবার ৫০ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এই সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বইমেলাকে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মূল আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান রাজ্য সরকার মেলাটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ সদস্যের একটি উপদেষ্টা বা পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে।
এবারের এই উপদেষ্টা কমিটিতে রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং আরএসএসের মুখপত্র ‘ভারতীয় জনবার্তা’র প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে সাংবাদিক প্রসেনজিৎ বকসি, অধ্যাপক অরিন্দম ভট্টাচার্য, মোহিত রায়, অনিল আচার্য, সপ্তর্ষি চৌধুরী, ওসমান গনি ও রাজকুমার বর্মণসহ কলকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন।
১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মেলার থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর। পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ বছর এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ নাটকের শতবর্ষকেও বিশেষভাবে উদযাপন করা হবে।
আয়োজক সংস্থা গিল্ডের পাশাপাশি এবার রাজ্য সরকার পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র (ইজেডসিসি) এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টকেও এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। গিল্ডের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে জানিয়েছেন, গিল্ডই মেলার মূল আয়োজক হিসেবে থাকছে, তবে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সপ্তর্ষি চৌধুরী জানান, এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা মেলা নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
সুবর্ণজয়ন্তীতে পা দিচ্ছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক বইমেলা। এবারের মেলা উপলক্ষে গঠিত ২৪ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন ও আরএসএসের মুখপত্রের প্রতিনিধিরা।



0 মন্তব্যসমূহ