চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বদলি আদেশের শেষ মুহূর্তে অস্বাভাবিক দ্রুততায় বিপুল পরিমাণ নামজারি মামলা অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকার সুযোগে প্রশাসনিক ক্ষমতা পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি তিন শতাধিক নামজারি ফাইল অনুমোদন করেছেন বলে ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নিয়মবহির্ভূত এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৬ ও ২৭ আগস্টের মধ্যে অনুমোদিত অনেক ফাইলের কাজ দাপ্তরিক সময়ের পরে, এমনকি গভীর রাতেও সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কার্যালয়ে বসে কাজ করার বিধান থাকলেও ইউএনও তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ডিজিটাল সিস্টেমে এসব ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত নাজির পলাশ দাশ জানান, ইউএনও ২৫ আগস্ট সিস্টেমে আইডি অ্যাক্সেস পান এবং ২৭ আগস্ট ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। অর্থাৎ মাত্র দুই কর্মদিবসেই তিনি এই বিপুল পরিমাণ নামজারি নিষ্পত্তি করেন।
সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়া সদর ভূমি অফিস থেকে প্রায় ৬০-৭০টি, বাজালিয়া থেকে ৩০টি এবং দেউদিঘী ও তুলাতলী অফিস থেকেও বেশ কিছু ফাইল অনুমোদন করা হয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি নামজারি মামলায় দলিলাদি যাচাই, খতিয়ান বিশ্লেষণ ও শুনানি গ্রহণের মতো একাধিক আইনি ধাপ থাকে, যা এত অল্প সময়ে সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত নয়। সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালন করা একজন সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, এত স্বল্প সময়ে প্রতিটি ফাইলের আইনি বৈধতা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা অসম্ভব।
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই যোগদানের পর খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে তিন দফায় বদলি করা হয়। সর্বশেষ ২৩ আগস্ট তাঁকে ঢাকা বিভাগে বদলির চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হলে ২৭ আগস্ট তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খোন্দকার মাহমুদুল হাসান কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে প্রতিবেদকের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এই সময়ের সকল নামজারি মামলার ডিজিটাল রেকর্ড ও টাইমলাইন বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বদলির ঠিক আগে মাত্র দুই দিনে তিন শতাধিক নামজারি ফাইল অনুমোদন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



0 মন্তব্যসমূহ