বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত ১৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। এই কমিটিতে মৃত ব্যক্তি, দীর্ঘদিনের শয্যাশায়ী রোগী, প্রবাসী এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলের একাংশের নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল ইসলামকে আহ্বায়ক, সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে সদস্য সচিব এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম রাঢ়ীকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই এর বৈধতা ও গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলন ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা।
নবগঠিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম রাঢ়ী ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর ইসলাম সাবুর দাবি, আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম একক সিদ্ধান্তে এই তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ১০৭ নম্বর সদস্য মিজানুর রহমান আয়নাল বেপারি অনেক আগে মারা গেছেন এবং ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন তালুকদার দীর্ঘ আট বছর ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। এছাড়া কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে যারা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন জানান, জেলা কমিটিকে না জানিয়েই কেন্দ্র থেকে সরাসরি এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম মেনে সবার সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি গঠন করা উচিত ছিল। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঝাড়ু মিছিল করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ক্ষুব্ধ নেতারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন।
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র কোন্দল। মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের পদ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ একাংশের নেতারা ঝাড়ু মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।
-6a67561b40c6f.webp)


0 মন্তব্যসমূহ