কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় গত দুই দিনে পৃথক দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত জেলার ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, বাজিতপুর, কটিয়াদী, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন—বাজিতপুরের তাসিন (৫) ও জান্নাতুল মাওয়া (৫), ইটনার ফাইজা আক্তার (৫), নিকলীর মোহাম্মদ হাকিম (৫), গাজীপুরের টঙ্গী থেকে আসা মাদরাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদীর নাঈম মিয়া (১১), ভৈরবের শুভ ইসলাম স্মরণ (১২), কিশোরগঞ্জ সদরের মোহাম্মদ ফয়সাল (২২) এবং ফিজিওথেরাপিস্ট বাবুর উদ্দিন মিলন (৩৮)।
নিকলী উপজেলার নামশী গ্রামে শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে খেলার সময় পুকুরে পড়ে মারা যায় মোহাম্মদ হাকিম। একই দিন দুপুরে কটিয়াদীর দক্ষিণ লোহাজুড়ি গ্রামে বিলে গোসল করতে নেমে নাঈম মিয়া গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। ভৈরবের জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া শুভ ইসলাম স্মরণের মরদেহ শুক্রবার বিকেলে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
মিঠামইনের হাওরে শিক্ষা সফরে আসা মাদরাসাছাত্র আরিফ হোসেন শুক্রবার সকালে ইসলামপুর ঘাট এলাকায় গোসল করতে নেমে স্রোতে ভেসে যায়। একই দিন বিকেলে মিঠামইনের হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় নৌকা থেকে পড়ে যাওয়া মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাবুর উদ্দিন মিলন প্রাণ হারান। তিনি মেয়েকে বাঁচাতে পারলেও নিজে তলিয়ে যান।
শনিবার দুপুরে বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকায় খালের পানিতে পড়ে তাসিন ও জান্নাতুল মাওয়া নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতে আসা যুবক মোহাম্মদ ফয়সাল শনিবার দুপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া ইটনা উপজেলার পাঠাকাইন্না গ্রামে শুক্রবার হাওরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া শিশু ফাইজা আক্তারের মরদেহ শনিবার উদ্ধার করা হয়।
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় গত দুই দিনে পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এসব ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে জেলাজুড়ে। বিস্তারিত জানুন সংবাদটিতে।



0 মন্তব্যসমূহ