দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের ঋণ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী হিসেবে অভিহিত করেন। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় সরকার তিন বছর মেয়াদে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে।
বর্তমানে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে রয়েছে। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি আজ অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। এরপর তারা অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের নীতি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু টাকা পাওয়া নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করেই নতুন কর্মসূচিতে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।
এর আগে গত ৯ জুন ঋণের জন্য আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বাস্তবতায় দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিটি বাতিল করে উভয় পক্ষ নতুন করে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন ভিসা নীতি নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান ভিসা নীতি আধুনিক করার কাজ চলছে। আজকের বৈঠকগুলোতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কাঠামো, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ, ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জনস্বার্থ রক্ষা করেই ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলারের এই ঋণ নেওয়া হবে।


0 মন্তব্যসমূহ