কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে দরপতন ঠেকাতে সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। ট্যানারিমালিকদের রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি ব্যাংক থেকে ১৬০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতি বর্গফুট চামড়ায় ২ টাকা দাম বাড়ানো হলেও বাস্তবে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রতি পিস চামড়া গত বছরের তুলনায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।
চামড়াশিল্প পুরোপুরি দেশীয় কাঁচামালনির্ভর হওয়ায় এর বিশাল রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে। আশির দশকে এই খাত তৈরি পোশাক শিল্পের চেয়েও এগিয়ে ছিল। তবে নীতিগত ব্যর্থতা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বর্তমানে এই শিল্প পিছিয়ে পড়ছে। বিশ্ববাজারে চামড়ার ৩০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বাজার থাকলেও বাংলাদেশ মাত্র ১ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
চামড়ার বাজার পড়ে যাওয়ায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো, যাদের আয়ের একটি বড় অংশ আসে চামড়া বিক্রি থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করা হলেও ৯ বছরেও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এর ফলে আন্তর্জাতিক এলডব্লিউজি সনদ না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই খাতের উন্নয়নে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং রপ্তানিমুখী বাজারের জন্য আলাদা শিল্পকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।
ব্যাংক ঋণ ও মূল্য নির্ধারণের পরও কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে বড় দরপতন হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। চামড়াশিল্প রক্ষায় এখন প্রয়োজন কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।



0 মন্তব্যসমূহ