ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনে ধনসম্পদকে একটি নিরপেক্ষ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর নিজস্ব কোনো চারিত্রিক গুণ নেই, বরং এর সার্থকতা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থার ওপর। ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ একটি ধারালো তলোয়ারের মতো, যা ন্যায়ের পক্ষে ব্যবহৃত হলে প্রশংসনীয় এবং অন্যায়ের কাজে ব্যবহৃত হলে নিন্দনীয়।
হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, আমর ইবনুল আস (রা.)-কে লক্ষ্য করে নবীজি (সা.) বলেছিলেন, মানুষের জন্য সৎ সম্পদ অত্যন্ত চমৎকার একটি বিষয়। ইমাম তাহাবি (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, সম্পদ তখনই কল্যাণময় হয় যখন তা আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যয় করা হয়। ইসলামে সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় তা মানবকল্যাণে বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতার ওপর।
আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের ধারণার বিপরীতে ইসলামের দর্শন অনুযায়ী, কেবল বিপুল অর্থ দিয়ে সভ্যতা নির্মাণ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন অর্থের পেছনে একজন সৎ ও আদর্শবান মানুষ। পবিত্র কুরআনের সুরা ফজরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, প্রাচুর্য বা অভাব কোনোটিই সম্মান বা লাঞ্ছনার মাপকাঠি নয়, বরং উভয়ই মানুষের জন্য পরীক্ষা। ইমাম ইবনে আশুর (রহ.)-এর মতে, জাগতিক অবস্থা দিয়ে আল্লাহর দরবারে মর্যাদা পরিমাপ করা যায় না। মানুষের প্রকৃত মূল্য তার তাকওয়া, সততা এবং অর্জিত সম্পদ সমাজের কল্যাণে ব্যয়ের ওপরই নির্ভর করে।
ইসলামে সম্পদ কেবল একটি মাধ্যম মাত্র। এর ভালো-মন্দ নির্ভর করে ব্যবহারের ওপর। সৎ মানুষের হাতে থাকা সম্পদই সমাজ ও সভ্যতার প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে বলে ইসলামের দর্শনে উল্লেখ করা হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ