জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় সুখবর দেওয়া হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করে ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, কৃষি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়কে করমুক্ত রাখার পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের ওপর দশমিক ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট ঘোষণার ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে সিগারেট, বিড়ি, তামাকজাত পণ্য, রড ও আমদানি করা কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। ৯ জুলাই পর্যন্ত বাজেট অধিবেশন চলবে এবং এতে প্রায় ৪০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম এই বাজেটে স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ