২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তবে এই বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংগঠনটি। এফবিসিসিআইয়ের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এই বড় আকারের বাজেট প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হলেও এটি বাস্তবায়নে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বেশ কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কর-জিডিপির নিম্ন অনুপাত ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার সুদ পরিশোধের ব্যয়কেও অর্থনীতির জন্য বড় চাপ হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই।
তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রাধিকার দেওয়াকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া অনলাইন কর ব্যবস্থাপনা ও অটোমেটেড রিটার্ন ফাইলিংয়ের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া চাল, গম, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাস এবং খেজুর ও রান্নার মসলা আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই। রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগগুলোকেও তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবায়নযোগ্য মনে করলেও রাজস্ব আহরণ ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখছে এফবিসিসিআই। তবে নিত্যপণ্যে শুল্ক ও কর কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।



0 মন্তব্যসমূহ